কিছু কথা প্রযুক্তি শিক্ষা বিষয়ক

আমাদের দেশে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে ’৯০-এর দশক থেকে অনেক স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে এ দেশের নতুন প্রজন্ম। কিন্তু আজকের প্রেক্ষাপটে বলা যায়, তথ্যপ্রযুক্তিতে আমাদের এতটা উন্নতি হয়নি যেটুকু হবার কথা ছিল। তবুও নতুন প্রজন্মের কাছে আইটি শিক্ষার আগ্রহ দিন দিন বেড়ে চলেছে। আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে আমরা কখনও গাছের গোড়ায় পানি না ঢেলে আগায় পানি ঢালতে অভ্যস্ত। কথাটির মানে হচ্ছ- তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা শুরু করা উচিত প্রাইমারী লেভেল থেকে কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে প্রাইমারী লেভেলে আইটি শিক্ষার অবস্থা খুবই নাজুক। তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা আমাদের দেশের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ভবিষ্যৎ এ সুফল বয়ে আনবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত করেই বলা যায়। কিন্তু ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশে বাণিজিকভাবে কম্পিউটার এর আবির্ভাব হলেও জাতীয় পাঠ্যক্রমে এ বিষয় অর্ন্তভুক্ত হয় ১৯৯৬ সালে। তবে বর্তমানে কিন্ডারগার্ডেন থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আলাদা ভাবে কম্পিউটার শিক্ষা দেওয়া হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এর ছাত্রছাত্রীদের শুধুমাত্র মাউস নড়াচড়া করার মধ্যেই সীমাবদ্ব থাকে। অনেক স্কুল কলেজে তাও সম্ভব হয় না। কম্পিউটার নষ্ট হওয়ার ভয়ে এমনভাবে কম্পিউটার টিকে যত্ন করে তালা মেরে রেখেছেন যে সেখানে কেউ ভয়ে হাত দেয় না। গত কয়েক বছরে দেশে মোবাইল ফোন নামের ডিভাইসটির ব্যবহার যেভাবে বেড়েছে প্রতিটি ঘরে যেখানে দামি-কমদামি মোবাইল ব্যবহার করে, সেভাবে কম্পিউটার এর ব্যবহার শুরু হয়নি। একটি বিষয় এখানে লক্ষ্য রাখতে হবে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যদি কম্পিউটার ব্যবহারের সুবিধা ঠিকভাবে তুলে ধরা না যায় তবে তারা তা ব্যবহার করবে না এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া আরেকটি ব্যাপার মোবাইল ফোন এর দাম যেভাবে কমে আসছে কম্পিউটার এর দাম সেভাবে কমছে না।
আইসিটি এডুকেশন
সরকারী পর্যায়ে কম্পিউটার শিক্ষার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় কিন্তু বাস্তব অবস্থা হচ্ছে এর মান বজায় না রাখা গেলে পুরো উদ্যোগটিই ভেস্তে যাবে। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে প্রতিটি স্কুলে সরকারের পাশাপাশি এলাকার সচেতন ও স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে স্কুল/কলেজ এক, দুটো কম্পিউটার দিয়ে ছোট আকারের একটি ল্যাব প্রতিষ্ঠা করতে পারে। কম্পিউটার শিক্ষককে এই শিক্ষায় পর্যাপ্ত থিউরি ও প্র্যাকটিক্যাল সর্ম্পকে ভালোভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে নিতে হবে। বর্তমানে অনেক প্রশিক্ষণ সেন্টার গড়ে উঠেছে যেখানে নিম্নমানের শিক্ষককে দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কারণে শিক্ষার্থিরা ভালো কিছু শিখতে পারছে না (কিছু ভালো প্রশিক্ষণ সেন্টারও আছে) ফলাফল পরবর্তীতে শিক্ষার্থী হতাশ হয়ে পড়ে। কম্পিউটার শিক্ষাকে পুজিঁ করে আমাদের দেশ হতে পারে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের এক বড় মাধ্যম। কিন্তু তার ভিত্তি হতে হবে স্কুল পর্যায় থেকে ।
শুরুতেই যদি একজন কোমল শিক্ষার্থীকে তথ্যপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার মাধ্যমে নিজে আনন্দ পায় তবে তাকে নিয়ে শুরু থেকে খুব বেশি পরিশ্রম করতে হবে না। সে নিজে থেকেই অনেক কিছু জানতে চেষ্টা করবে। তবে এর জন্য বর্তমান সিলেবাসকে একটু যুগপোযোগী করতে হবে। পুরাতন সিলেবাস প্রতিবছর না রেখে যদি ১ বা ২ বৎসর পর পর চেঞ্জ করা যায় এবং কম্পিউটারের এমন কিছু ডিভাইসের অংশ সিলেবাসে সংযোজন করা যায় যা দেখে শিক্ষার্থি আনন্দের সাখে শিক্ষা লাভ করতে পারবে। তবেই শিক্ষার্থি কম্পিউটার এর প্রতি আগ্রহী হবে সাথে অভিভাবকের দেয় সহযোগিতা ও প্রয়োজন।
উচ্চ মাধ্যমিক অবস্থায় এসে থিওরি পড়ার পাশাপাশি কিছু কিছু প্র্যাকটিক্যাল কাজ করা উচিত। বর্তমানে প্রাইভেট ও পাবলিক ইউনির্ভারসিটি গুলো থেকে প্রতি বৎসর হাজার হাজার ছাত্র/ছাএী বের হচ্ছে। কিন্তু বাস্তব চিএ হচ্ছে ব্যবহারিক জ্ঞান সীমিত থাকার কারণে অনেকে চাকুরি না পেয়ে হতাশ হচ্ছে আর অনেকে বিদেশে চলে যাচ্ছে। কিন্তু ভালো কাজ জানলে লোকের চাহিদা বাংলাদেশে প্রচুর রয়েছে। দেশে এখন লোকার কাজের পাশাপাশি আউট সোসিং (বাইরের দেশগুলো আমাদেও দেশ থেকে কাজ গুলো করে নেয়) হচ্ছে। তাই কোন কোম্পানিতে চাকুরি না করে ও যদি অভিজ্ঞতা থাকে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসেই (যেখানে ইন্টারনেট, বিদ্যুত আছে) অনায়াসে কাজ করা যায়। এই দক্ষ ছাত্র/ছাএী তৈরী করার জন্য কলেজ ও ইউনিভারসিটি গুলোকে আর ও বেশী প্র্যাকটিক্যাল এর প্রতি নজর দিতে হবে। ডিগ্রি অর্জনের শেষের দিকে ছাত্র/ছাএীরা Industrial Attahment নিয়ে বিপদে পড়ে। কোথায় করবে কার কোন নির্দেশনা থাকে না অনেক কোম্পানি এসব ছাত্র/ছাএীদেও ঝামেলা মনে কওে নিতে চায় না। সংশিষ্ট শিক্ষাপ্রধান ও কর্তৃপক্ষের উচিৎ আগে থেকেই বিভিন্ন কোম্পানির সাথে কথা বলে জায়গা ঠিক করে নেয়া যেখানে ছাত্র/ছাএীরা নিশ্চিন্তে ব্যবহারিক জ্ঞান আহোরন করতে পারবে।
আমরা শিক্ষা গ্রহন করি জ্ঞান ,দক্ষতা বৃদ্বি উপলদ্বি ও মনোভাবের সুপর্রিবতন ও সুখে শান্তিতে বসবাসের জন্য। কিন্তু অনেক ক্ষেএেই আমরা হোছট খাচ্ছি কাজের সুযোগ,সাধনা ও আন্তরিকতার অভাবে। বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে নিজেকে কম্পিউটার শিক্ষায় পরিপূর্ন একজন মানুষ হিসাবে তৈরী করার মধ্যে দিয়েই কম্পিউটার/তথ্য-প্রযুক্তির কাক্ষিত ফল আমরা পাব।


                                                                                                                      লেখক
                                                                                                           আরিফুল হাসান অপু